শিরোনামঃ
মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানী সিন্ডিকেট প্রধান স্বপনের ৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রোক বিআরটি এর ভাতিজা রফিকও বহাল তবিয়তে কে এই প্রতারক নাহিদ, পরিচয় ও তার পেশা কি জুড়ীতে অবৈধ স’মিল মালিকের বিদ্যুৎ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ঘুষের অভিযোগ তারেক রহমানের নির্দেশনা অমান্য করে সাজুর মোটরসাইকেল শোডাউনে হতাশ নেতাকর্মীরা এলজিইডির প্রশাসনিক শাখার কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান ও স্ত্রী মর্জিনা খাতুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ মান্দায় ভূয়া প্রকল্পের নামে অর্থ হরিলুটের অভিযোগ রকিবুল হাসান রনি ও তার পরিবারের ভয়ঙ্কর প্রতারণার জাল এনবিআরের কর পরিদর্শক সাইদুর রহমানের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ: কোটি টাকার সম্পদের খোঁজে আইটিআইআইইউ দুর্নীতির বরপুত্র মঞ্জুর আলী পর্ব -১ প্রকল্প শুরু হতেই শত কোটি টাকা পিডি মঞ্জুর আলীর পকেট

রুবেল-বাবুর ছত্রছায়ায় চট্টগ্রামে ঘুষের বাণিজ্য

#
news image

চট্টগ্রাম বিভাগীয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র। একদিকে ডিজিটাল সেবার ঘোষণা, অন্যদিকে গ্রাহক হয়রানির অমানবিক চিত্র–এই দ্বৈত বাস্তবতার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটি আজ দুর্নীতির মূলে জর্জরিত। এই অব্যবস্থাপনার কেন্দ্রে রয়েছেন দুই আলোচিত দালাল–রুবেল দাশ ও বাবু কান্তি দাশ। অভিযোগ রয়েছে, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জি.) মো. মাসুদ আলম এবং উপ-পরিচালক (ইঞ্জি.) সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরীর প্রত্যক্ষ ছত্রচ্ছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে এই কোটি টাকার দালালি বাণিজ্য।

২০২৩ সালের ২৩ মে বিআরটিএ কেন্দ্রীয় কার্যালয় একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা দেয়, ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করলেই সেবা পাওয়া যাবে। এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল ঘুষ ও দালাল নির্ভরতা বন্ধ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। কিন্তু চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। টাকা জমা দিয়ে গ্রাহক ফাইল জমা দিলেও সেই ফাইল দিনের পর দিন পড়ে থাকে। যদি ‘সেটেল’ না হয়–অর্থাৎ দালাল সিন্ডিকেটের অনুমোদন না থাকে–তবে কোনো ফাইলই কার্যকর হয় না। অথচ দালালের হাত ঘুরে আসা ‘বিশেষ চিহ্নিত’ ফাইল মুহূর্তেই নিষ্পত্তি পায়।রুবেল দাশ বিআরটিএ’র অস্থায়ী কর্মচারী। তবে তিনি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মতো হালিশহর সার্কেল-১ কার্যালয়ের মালিকানা সেকশনে নির্দ্বিধায় চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসে অফিস পরিচালনা করেন। মালিকানা সেকশনে কোনো কাজ রুবেল দাশের ইশারা ছাড়া হয় না। তার চাহিদা অনুযায়ী ঘুষ দিলে সেই কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়। এছাড়াও তার আরেকটি কাজ হলো–২০১৭ থেকে ২০২০ মডেলের প্রাইভেট গাড়ির জন্য ২০২১-২০২৪ সালের ভুয়া রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য কাগজপত্র তৈরি করা।

বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, এই ভুয়া ডকুমেন্টস বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় প্রস্তুত করা হয়। পরে গাড়িগুলো বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রুবেল দাশ সময়ের কণ্ঠস্বর-কে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বানোয়াট। এসবের পেছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা কাজ করছে।’

আরেক দালাল বাবু কান্তি দাশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বিআরটিএ কার্যালয়ের ফাইল চলাচল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ‘মার্কা’ নামক এক ধরনের গোপন সংকেত ব্যবহার করেন, যা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেয়–এই ফাইলটি দালালচক্রের ‘স্পেশাল কেস’। বাবু কান্তি দাশের ‘মার্কা’ সংবলিত ফাইল অগ্রাধিকার পায়, দ্রুত নিষ্পত্তি হয়। অন্যদিকে, সাধারণ গ্রাহক দিনের পর দিন ঘুরেও সেবা পান না। জানা গেছে, বাবু দাশ এই দালালি থেকে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তার গ্রামের বাড়িতে নির্মাণ করেছেন এক নান্দনিক বাড়ি এবং নগরীর দিদার মার্কেট এলাকার ঈশ্বরদী লাইনে কিনেছেন বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।

বাবু দাশ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক ৩২ নম্বর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহর লাল হাজারীর অনুসারী। এই দু’জনের দাপট দেখিয়ে আওয়ামী সরকারের আমলে বিআরটিএ’র দালালি করে কোটি কোটি টাকা ইনকাম করেন। অভিযোগ রয়েছে, ‘জুলাই বিপ্লব’ নামে পরিচিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে জহর লাল হাজারীকে অর্থ সহায়তা দিয়েছিলেন বাবু দাশ। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর আবারও দালালি কাজে সক্রিয় হয়েছেন বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক এবং উপ-পরিচালকের আশীর্বাদে।

এই প্রসঙ্গে বাবু কান্তি দাশ সময়ের কণ্ঠস্বর-কে বলেন, ‘আমি কোনো দালাল নই। আমি শ্রমিক নেতা। আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নই। আপনি হয়তো ভুল জায়গায় ফোন দিয়েছেন। আমার বাড়িও সাতকানিয়ায় নয়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলায়।’

অথচ বাবু কান্তি দাশের ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে এবং অনুসন্ধান করে জানা যায়, তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার ১২ নম্বর ধর্মপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দী পাড়া গ্রামে। তিনি হারাধন দাশের পুত্র। তার প্রোফাইলে এখনও বিভিন্ন আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে ছবি এবং বিভিন্ন পোস্টার রয়েছে। বিষয়টি সময়ের কণ্ঠস্বরকে নিশ্চিত করেছেন ধর্মপুর ইউনিয়নের দায়িত্বরত গ্রাম পুলিশ স্বপন নন্দী। তিনি বলেন, ‘বাবু দাদা আমাদের ইউনিয়নে সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত। তিনি আওয়ামী লীগ করতেন, হাসিনার পতনের পর এখন আর গ্রামে আসেন না। তিনি আমাদের সামাজিক যেকোনো অনুষ্ঠানে প্রচুর টাকাপয়সা ব্যয় করতেন। উনি আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার রাজনীতি করতেন।’

বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের বর্তমান পরিচালক মো. মাসুদ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে–তিনি যে অফিসেই দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেই গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির অবকাঠামো। চট্টগ্রামে এসে তিনি দালালদের মাধ্যমে সমন্বিত দুর্নীতি কাঠামো তৈরি করেছেন। বলা হচ্ছে, রুবেল ও বাবু এই দুই দালাল শুধু তার ঘনিষ্ঠ নন, বরং অবৈধ লেনদেনের প্রধান বাহক। ফাইল থেকে ফ্ল্যাট–প্রতিটি ঘুষের অঙ্ক, দালাল থেকে অফিসারদের ভাগ, সবই চলে এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।

বিভিন্ন সেবা নিতে এসে সাধারণ গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সরাসরি সেবা নিতে গেলে ফাইল মাসের পর মাস পড়ে থাকে। অথচ দালালের মাধ্যমে সেই কাজ ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন হয়।

গ্রাহকদের অনেকেই বলছেন, ‘ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে কাজ হয় না, দালালের টাকা না দিলে অফিস ফাইলই গ্রহণ করে না।’ এই অবস্থায় আইনি কোনো পদক্ষেপ না থাকায় চক্রটি আরও দুর্বিনীত হয়ে উঠছে।

এই প্রসঙ্গে বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মো. মাসুদ আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

৫-৬-২০২৫ দুপুর ৪:৭

news image

চট্টগ্রাম বিভাগীয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কার্যালয়ে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র। একদিকে ডিজিটাল সেবার ঘোষণা, অন্যদিকে গ্রাহক হয়রানির অমানবিক চিত্র–এই দ্বৈত বাস্তবতার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটি আজ দুর্নীতির মূলে জর্জরিত। এই অব্যবস্থাপনার কেন্দ্রে রয়েছেন দুই আলোচিত দালাল–রুবেল দাশ ও বাবু কান্তি দাশ। অভিযোগ রয়েছে, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জি.) মো. মাসুদ আলম এবং উপ-পরিচালক (ইঞ্জি.) সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরীর প্রত্যক্ষ ছত্রচ্ছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে এই কোটি টাকার দালালি বাণিজ্য।

২০২৩ সালের ২৩ মে বিআরটিএ কেন্দ্রীয় কার্যালয় একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা দেয়, ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করলেই সেবা পাওয়া যাবে। এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল ঘুষ ও দালাল নির্ভরতা বন্ধ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। কিন্তু চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। টাকা জমা দিয়ে গ্রাহক ফাইল জমা দিলেও সেই ফাইল দিনের পর দিন পড়ে থাকে। যদি ‘সেটেল’ না হয়–অর্থাৎ দালাল সিন্ডিকেটের অনুমোদন না থাকে–তবে কোনো ফাইলই কার্যকর হয় না। অথচ দালালের হাত ঘুরে আসা ‘বিশেষ চিহ্নিত’ ফাইল মুহূর্তেই নিষ্পত্তি পায়।রুবেল দাশ বিআরটিএ’র অস্থায়ী কর্মচারী। তবে তিনি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মতো হালিশহর সার্কেল-১ কার্যালয়ের মালিকানা সেকশনে নির্দ্বিধায় চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসে অফিস পরিচালনা করেন। মালিকানা সেকশনে কোনো কাজ রুবেল দাশের ইশারা ছাড়া হয় না। তার চাহিদা অনুযায়ী ঘুষ দিলে সেই কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়। এছাড়াও তার আরেকটি কাজ হলো–২০১৭ থেকে ২০২০ মডেলের প্রাইভেট গাড়ির জন্য ২০২১-২০২৪ সালের ভুয়া রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য কাগজপত্র তৈরি করা।

বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, এই ভুয়া ডকুমেন্টস বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় প্রস্তুত করা হয়। পরে গাড়িগুলো বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রুবেল দাশ সময়ের কণ্ঠস্বর-কে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বানোয়াট। এসবের পেছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা কাজ করছে।’

আরেক দালাল বাবু কান্তি দাশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বিআরটিএ কার্যালয়ের ফাইল চলাচল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ‘মার্কা’ নামক এক ধরনের গোপন সংকেত ব্যবহার করেন, যা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেয়–এই ফাইলটি দালালচক্রের ‘স্পেশাল কেস’। বাবু কান্তি দাশের ‘মার্কা’ সংবলিত ফাইল অগ্রাধিকার পায়, দ্রুত নিষ্পত্তি হয়। অন্যদিকে, সাধারণ গ্রাহক দিনের পর দিন ঘুরেও সেবা পান না। জানা গেছে, বাবু দাশ এই দালালি থেকে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তার গ্রামের বাড়িতে নির্মাণ করেছেন এক নান্দনিক বাড়ি এবং নগরীর দিদার মার্কেট এলাকার ঈশ্বরদী লাইনে কিনেছেন বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।

বাবু দাশ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক ৩২ নম্বর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহর লাল হাজারীর অনুসারী। এই দু’জনের দাপট দেখিয়ে আওয়ামী সরকারের আমলে বিআরটিএ’র দালালি করে কোটি কোটি টাকা ইনকাম করেন। অভিযোগ রয়েছে, ‘জুলাই বিপ্লব’ নামে পরিচিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে জহর লাল হাজারীকে অর্থ সহায়তা দিয়েছিলেন বাবু দাশ। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর আবারও দালালি কাজে সক্রিয় হয়েছেন বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক এবং উপ-পরিচালকের আশীর্বাদে।

এই প্রসঙ্গে বাবু কান্তি দাশ সময়ের কণ্ঠস্বর-কে বলেন, ‘আমি কোনো দালাল নই। আমি শ্রমিক নেতা। আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নই। আপনি হয়তো ভুল জায়গায় ফোন দিয়েছেন। আমার বাড়িও সাতকানিয়ায় নয়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলায়।’

অথচ বাবু কান্তি দাশের ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে এবং অনুসন্ধান করে জানা যায়, তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার ১২ নম্বর ধর্মপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দী পাড়া গ্রামে। তিনি হারাধন দাশের পুত্র। তার প্রোফাইলে এখনও বিভিন্ন আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে ছবি এবং বিভিন্ন পোস্টার রয়েছে। বিষয়টি সময়ের কণ্ঠস্বরকে নিশ্চিত করেছেন ধর্মপুর ইউনিয়নের দায়িত্বরত গ্রাম পুলিশ স্বপন নন্দী। তিনি বলেন, ‘বাবু দাদা আমাদের ইউনিয়নে সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত। তিনি আওয়ামী লীগ করতেন, হাসিনার পতনের পর এখন আর গ্রামে আসেন না। তিনি আমাদের সামাজিক যেকোনো অনুষ্ঠানে প্রচুর টাকাপয়সা ব্যয় করতেন। উনি আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার রাজনীতি করতেন।’

বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের বর্তমান পরিচালক মো. মাসুদ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে–তিনি যে অফিসেই দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেই গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির অবকাঠামো। চট্টগ্রামে এসে তিনি দালালদের মাধ্যমে সমন্বিত দুর্নীতি কাঠামো তৈরি করেছেন। বলা হচ্ছে, রুবেল ও বাবু এই দুই দালাল শুধু তার ঘনিষ্ঠ নন, বরং অবৈধ লেনদেনের প্রধান বাহক। ফাইল থেকে ফ্ল্যাট–প্রতিটি ঘুষের অঙ্ক, দালাল থেকে অফিসারদের ভাগ, সবই চলে এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।

বিভিন্ন সেবা নিতে এসে সাধারণ গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সরাসরি সেবা নিতে গেলে ফাইল মাসের পর মাস পড়ে থাকে। অথচ দালালের মাধ্যমে সেই কাজ ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন হয়।

গ্রাহকদের অনেকেই বলছেন, ‘ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে কাজ হয় না, দালালের টাকা না দিলে অফিস ফাইলই গ্রহণ করে না।’ এই অবস্থায় আইনি কোনো পদক্ষেপ না থাকায় চক্রটি আরও দুর্বিনীত হয়ে উঠছে।

এই প্রসঙ্গে বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মো. মাসুদ আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।