শিরোনামঃ
পুরান ঢাকায় রাজউকের নীতিমালা অমান্য করে বহুতল ভবন নির্মাণ চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি প্রার্থীকে প্রাণনাশের হুমকি প্রতারণার অভিযোগে অভিজাত রেস্টুরেন্ট মালিক গ্রেপ্তার গণপূর্তে দুর্নীতির বরপুত্র প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম ম্যাডাম খালেদা জিয়া নেই: জাতীয় ঐক্যের এক অভিভাবকের বিদায় বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমান গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানী সিন্ডিকেট প্রধান স্বপনের ৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রোক বিআরটি এর ভাতিজা রফিকও বহাল তবিয়তে কে এই প্রতারক নাহিদ, পরিচয় ও তার পেশা কি জুড়ীতে অবৈধ স’মিল মালিকের বিদ্যুৎ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ঘুষের অভিযোগ

পুরান ঢাকায় রাজউকের নীতিমালা অমান্য করে বহুতল ভবন নির্মাণ

#
news image

রাজধানীর পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া থানাধীন ওয়ারী মৌজা ৯ নম্বর গুরুদাস সরকার লেনে যার স্মারক নং :২৫.৩৯.০০০০.১৩১.৩৩.১০০.২০ রাজউকের নীতিমালা অমান্য করে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উক্ত এলাকার কাজী খলিলুর বাশার গং তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি উন্নয়নের জন্য এস এম প্রপার্টিজ নামক একটি ডেভেলপার কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। রাজউক থেকে তারা ১৫ শতাংশ জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমতি নেন। নিয়ম অনুযায়ী ভবন নির্মাণে ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২ (সংশোধিত) এর ৩(খ) ধারার শর্ত অনুসারে কমপক্ষে জমির পরিমাপ থেকে ৪০% খোলা জায়গা রাখা বাধ্যতামূলক হলেও তা মানা হয়নি।

 

অভিযোগ রয়েছে, এস এম প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিজের প্রভাব খাটিয়ে রাজউকের আইন অমান্য করে ইচ্ছেমতো ৬ ফিট রাস্তায় ১০ তলা ভবন নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ভবনটির তিনতলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং চতুর্থ তলার কাজ চলছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবন নির্মাণে বাধ্যতামূলক সাইনবোর্ড ও নিরাপত্তা নেট ব্যবহার করা হয়নি। এতে জনসাধারণ ও শ্রমিকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এস এম প্রপার্টিজের স্থপতি সুব্রত হাওলাদার দৈনিক সকালের সময় কে বলেন,“আমি ৩ তলার কাজ শেষ করে এখন ৪ তলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিনিয়তই রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আমার প্রকল্পে আসেন। যদি রাজউকের সহযোগিতা না থাকত, তাহলে কি আমি এতদূর কাজ করতে পারতাম? এখন পর্যন্ত রাজউকের পক্ষ থেকে কোনো বাধা আসেনি।”

 

তিনি আরও দাবি করেন, রাজউকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিয়মিত সহযোগিতা করায় ভবন নির্মাণে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন না। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।

 

অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে জোন ৭/১ ইমারত পরিদর্শক সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, “আমরা ভবন কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছি, এখনো নকশা সংক্রান্ত কোনো কাগজ তারা জমা দেয়নি। মালিকপক্ষ কাগজপত্র জমা না দিলে আইন অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া হবে। বর্তমানে রাজউকের মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম চলমান আছে। যেকোনো সময় উক্ত ভবনে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

 

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে পুরান ঢাকায় প্রতিনিয়ত এ ধরনের অবৈধ বহুতল ভবন গড়ে উঠছে। এতে নগর পরিকল্পনার চরম ব্যাঘাত ঘটছে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে।

 

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, পুরান ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নীতিমালা অমান্য করে বহুতল ভবন নির্মাণ অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প কিংবা যেকোনো দুর্ঘটনায় ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, “এ ধরনের অনিয়ম শহরের নিরাপত্তা ও পরিকল্পনাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে। রাজউকের উচিত অবিলম্বে অবৈধ নির্মাণ বন্ধ করা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫-১-২০২৬ দুপুর ৩:৫৭

news image

রাজধানীর পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া থানাধীন ওয়ারী মৌজা ৯ নম্বর গুরুদাস সরকার লেনে যার স্মারক নং :২৫.৩৯.০০০০.১৩১.৩৩.১০০.২০ রাজউকের নীতিমালা অমান্য করে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উক্ত এলাকার কাজী খলিলুর বাশার গং তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি উন্নয়নের জন্য এস এম প্রপার্টিজ নামক একটি ডেভেলপার কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। রাজউক থেকে তারা ১৫ শতাংশ জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমতি নেন। নিয়ম অনুযায়ী ভবন নির্মাণে ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২ (সংশোধিত) এর ৩(খ) ধারার শর্ত অনুসারে কমপক্ষে জমির পরিমাপ থেকে ৪০% খোলা জায়গা রাখা বাধ্যতামূলক হলেও তা মানা হয়নি।

 

অভিযোগ রয়েছে, এস এম প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিজের প্রভাব খাটিয়ে রাজউকের আইন অমান্য করে ইচ্ছেমতো ৬ ফিট রাস্তায় ১০ তলা ভবন নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ভবনটির তিনতলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং চতুর্থ তলার কাজ চলছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবন নির্মাণে বাধ্যতামূলক সাইনবোর্ড ও নিরাপত্তা নেট ব্যবহার করা হয়নি। এতে জনসাধারণ ও শ্রমিকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এস এম প্রপার্টিজের স্থপতি সুব্রত হাওলাদার দৈনিক সকালের সময় কে বলেন,“আমি ৩ তলার কাজ শেষ করে এখন ৪ তলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিনিয়তই রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আমার প্রকল্পে আসেন। যদি রাজউকের সহযোগিতা না থাকত, তাহলে কি আমি এতদূর কাজ করতে পারতাম? এখন পর্যন্ত রাজউকের পক্ষ থেকে কোনো বাধা আসেনি।”

 

তিনি আরও দাবি করেন, রাজউকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিয়মিত সহযোগিতা করায় ভবন নির্মাণে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন না। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।

 

অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে জোন ৭/১ ইমারত পরিদর্শক সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, “আমরা ভবন কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছি, এখনো নকশা সংক্রান্ত কোনো কাগজ তারা জমা দেয়নি। মালিকপক্ষ কাগজপত্র জমা না দিলে আইন অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া হবে। বর্তমানে রাজউকের মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম চলমান আছে। যেকোনো সময় উক্ত ভবনে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

 

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে পুরান ঢাকায় প্রতিনিয়ত এ ধরনের অবৈধ বহুতল ভবন গড়ে উঠছে। এতে নগর পরিকল্পনার চরম ব্যাঘাত ঘটছে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে।

 

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, পুরান ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নীতিমালা অমান্য করে বহুতল ভবন নির্মাণ অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প কিংবা যেকোনো দুর্ঘটনায় ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, “এ ধরনের অনিয়ম শহরের নিরাপত্তা ও পরিকল্পনাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে। রাজউকের উচিত অবিলম্বে অবৈধ নির্মাণ বন্ধ করা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।”