মিলনের অঢেল সম্পদের উৎস কি?
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪-৭-২০২৫ রাত ৯:৪৫
মিলনের অঢেল সম্পদের উৎস কি?
আমাদের দেশে ‘দুর্নীতি’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অনেক আগে থেকেই। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করেন, তাদের অধিকাংশের এ বিষয়ে কোনো অনুশোচনা বা হীনমন্যতা নেই। তারা এতটাই মানসিকভাবে অসুস্থ যে, অন্যায়-অপরাধ করেও অত্যন্ত স্বাভাবিক থাকেন। সাধারণভাবে একজন সাইকোপ্যাথ যা করেন। কারণ তাদের মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার বা অপরাধী হিসেবে ধরা পড়ার কোনো ভয় থাকে না। কেননা সেই পরিস্থিতিতে কীভাবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মিথ্যা বলে সামাল দিতে হবে, একজন সাইকোপ্যাথের তা ভালোমতো জানা থাকে। আর এ ধরনের দুর্বৃত্তায়ন একদিনে হয়নি। শিক্ষা বোর্ডে দুর্নীতি শুরু হয়েছে ১৯৭৩ সাল থেকেই। আশির দশকে এটি ব্যাপকতা পায়। তারপর একটু কমে এলেও, শিক্ষা বোর্ডে দুর্নীতি বন্ধ হয়নি। অপরাধের দায়ে এখন পর্যন্ত ক'জন বোর্ড কর্মকর্তা কর্মচারীকে এ পর্যন্ত চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে? অথবা করা হয়েছে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি? তা আমরা জানি না।
সরকার যায়, সরকার আসে, বহাল তবিয়তে রয়ে যায় দুর্নীতি বাজরা। তেমনি একজন দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর সন্ধান পাওয়া গেছে এই শিক্ষাবোর্ডে। আর তিনি হলেন মিলন খন্দকার। পুরো নাম আলমগীর হোসেন তবে মিলন খন্দকার নামেই বেশী পরিচিত। একসময় কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে দরিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা এই ব্যক্তি বর্তমানে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। রাজধানী ঢাকায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের একজন সাধারণ কর্মচারী হয়েও গড়ে তুলেছেন- বিপুল পরিমাণ সম্পদ। যা নিয়ে মিলনের নিজ গ্রাম ও অফিসে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পদ ছোট হলেও মিলন গত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার আমলে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতা তৈরি করে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে নিয়োগ, বদলি বানিজ্য, জাল সার্টিফিকেট ও মার্কসিট পরিবর্তন করে ফেল করা ছাত্রদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পাশ করানোর এক শক্তিশালি সিন্ডিকেট তৈরি করে যা- এখনো চলমান আছে বলে জানা যাচ্ছে। আর এই অবৈধ অর্থ দিয়ে এলাকার আওয়ামী সরকারের মনোনিত যে কোন ক্যান্ডিডেটের পেছনে খরচ করতেন অঢেল সম্পদ।
আবার এখন ভোল পাল্টিয়ে রীতিমত বিএনপি মনা হয়ে উঠেছেন। তাই, কেউ কেউ বলছেন, মিলনেরা আসলে মুখোশধারী। যখন যে ক্ষমতায় আসে, তখন সেই স্রোতে গাঁ ভাসায়।
মিলন খন্দকারের পেশাগত যাত্রা শুরু হয় ঢাকার বকশি বাজার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড অফিসের ছোট একটি পদ থেকে। মাত্র এক যুগ আগেও তার নিজের ও শ্বশুরবাড়ির আর্থিক অবস্থা ছিল নাজুক। পরিবারের সবাই সীমিত আয়, কৃষি শ্রমিক ও বর্গা জমিজমা চাষের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে মিলন চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। অনিয়ম ও দুর্নীতি তাকে দ্রুতই অঢেল সম্পদের মালিক করে তুলেছে।
রাজবাড়ী'র কালুখালী উপজেলা বল্লভপুর গ্রামের বাসিন্দা হাসেম খন্দকার, তাঁর চার ছেলের মধ্যে মিলন তৃতীয়। আগে দিন-পাত চলতো না, মিলনের চাকরি পাওয়ার পর থেকে উচ্চ-বিত্ত পরিবার হয়ে উঠেছেন তারা। কি করেননি গ্রামে, পাকাবাড়ি ছারাও তাঁর অর্থায়নে অন্য আরেক ভাইয়ের ৩ তলা বিল্ডিংয়ের কাজ চলমান। জনশ্রুতি আছে, এলাকা ও কালুখালী উপজেলা শহরে কিনেছেন বেশ কিছু জমি এবং উপজেলা শহরে রেন্ট-এ কারে তার একটি গাড়ি ভাড়া দেওয়া রয়েছে। তিনি উচ্চ বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন। তাঁর যাতায়াত ও বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়া আসার জন্য রয়েছে আরেকটি প্রাইভেট কার। ছোট পদে চাকরী করে গাড়ি নিয়ে বাড়ি যাওয়া আসা করায় এলাকাবাসীর মধ্যে অনেক আগে থেকেই ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকায় নিজের বাড়ি মিরপুর ১, বশিরউদ্দিন রোডস্থ পাইকপাড়ায়।
নিজের প্রাইভেট কার, জমির শেয়ার ও ব্যবসা আছে।
মিলন লেখাপড়ায় অতি দুর্বল ছাত্র, উন্মুক্ত থেকে কোনমতে পড়াশোনা করে এই চাকুরিটি বাগিয়ে নিয়েছে। চাকরিদাতা মুস্তাফিজুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সিনিয়র অফিসার- ঐ সময় মিলনসহ বল্লভপুর গ্রামের আরো দুই জনকে চাকুরী দিয়েছেন, তাঁরা হলেন; ফরিদ ও জাকির।
জানতে চাইলে তার নিজগ্রাম ভল্লবপুর পীর বাড়ির এক ব্যক্তি বলেন, কয়দিন আগেও ঠিকমত ভাত পেত না, সেই লোক এখন নিজস্ব গাড়ি নিয়ে চলাচল করে। বাড়িতে এলে দলবল নিয়ে চলাচল করে, তাদের পিছনে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করেন। শুনেছি কয়দিন আগে তাঁর মেয়ের ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসার জন্য এ্যাপোলো হাসপাতালে ৪২ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন এই মিলন। এতো টাকার উৎস কি? মেয়েকে বিলাসবহুল হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে অর্থের উৎস্য কোথায়? আগে, এমন কোন আওয়ামী লীগ নেতা নাই- যার নাম মিলন বিক্রি করে নাই। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এখন, রাজবাড়ী -১ আসনের সাবেক বিএনপি'র এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এর নাম বিক্রি করছেন বলে শোনা যায়।অনুসন্ধনে জানা যায়, ধূর্ত মিলন খন্দকার, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিব) সভাপতি ডক্টর ইকবাল আর্সালনের নাম বিক্রি করতেন।
মিলন খন্দকার, আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রাথী পাংশা পৌরসভার চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলী মন্ডলের নির্বাচনের সময়, সৌজন্যে মিলন খন্দকার সম্মিলিত নাম যুক্ত উন্নতমানের ব্যাচ বানিয়ে দিয়েছেন লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে। অর্ধ শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষে তিনি বিগত সময়ে নিয়মিত তাঁর নিজের ফেসবুক থেকে প্রচারণা চালিয়ে পোস্ট করেছে। সেগুলোর সকল তথ্য প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, তার এবং পরিবারের কাছে এখন বিলাসবহুল গাড়ি, লাখের বেশি টাকার দামি ফোন এবং স্বর্ণালঙ্কারের অভাব নেই। এমনকি রাজবাড়ী ও ঢাকায় তার উল্লেখযোগ্য ব্যবসার শেয়ার রয়েছে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সরকারি সেবার নামে নানা অজুহাতে অর্থ আদায় করে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।
মিলনের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে বিভাগীয় মামলা হতে পারে এমন গুঞ্জনও উঠেছে। জনশ্রুতি আছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই অভিযোগ জমা পড়েছে।
অনেক আগেই দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত মিলনের চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার কথা ছিল। অদৃশ্য কারণে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে ক্ষমতা ও প্রভাবে তার হয়নি। মিলনের গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, তার বাবা ছিলেন একজন অতি দরিদ্র ডাক পিয়ন, সামান্য বেতনের টাকার সংসার চালাতে না পেরে কৃষি কাজও করতেন। পরিবারের অন্য ৩ ভাইয়েরা শ্রমিক ও সামান্য চাকরির মাধ্যমে জীবনযাপন করেন। অথচ মিলনের সম্পদের পরিমাণ এত বেশি যে, তার জীবনযাত্রা আর দশজনের সঙ্গে মেলে না।
একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর পক্ষে এ ধরনের অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। এলাকাবাসীর দাবি, এই অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এই প্রতিবেদকের হাতে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য প্রমাণ থাকার পারেও, তিনি সকল বিষয় অস্বীকার করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মরত কর্মচারীদের এই ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু স্থানীয় প্রশাসনের নয়, গোটা দেশের সুশাসনের জন্য হুমকি। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত ও সুষ্ঠু পদক্ষেপই কেবল এই ধরনের অনিয়মের লাগাম টানতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪-৭-২০২৫ রাত ৯:৪৫
আমাদের দেশে ‘দুর্নীতি’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অনেক আগে থেকেই। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করেন, তাদের অধিকাংশের এ বিষয়ে কোনো অনুশোচনা বা হীনমন্যতা নেই। তারা এতটাই মানসিকভাবে অসুস্থ যে, অন্যায়-অপরাধ করেও অত্যন্ত স্বাভাবিক থাকেন। সাধারণভাবে একজন সাইকোপ্যাথ যা করেন। কারণ তাদের মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার বা অপরাধী হিসেবে ধরা পড়ার কোনো ভয় থাকে না। কেননা সেই পরিস্থিতিতে কীভাবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মিথ্যা বলে সামাল দিতে হবে, একজন সাইকোপ্যাথের তা ভালোমতো জানা থাকে। আর এ ধরনের দুর্বৃত্তায়ন একদিনে হয়নি। শিক্ষা বোর্ডে দুর্নীতি শুরু হয়েছে ১৯৭৩ সাল থেকেই। আশির দশকে এটি ব্যাপকতা পায়। তারপর একটু কমে এলেও, শিক্ষা বোর্ডে দুর্নীতি বন্ধ হয়নি। অপরাধের দায়ে এখন পর্যন্ত ক'জন বোর্ড কর্মকর্তা কর্মচারীকে এ পর্যন্ত চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে? অথবা করা হয়েছে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি? তা আমরা জানি না।
সরকার যায়, সরকার আসে, বহাল তবিয়তে রয়ে যায় দুর্নীতি বাজরা। তেমনি একজন দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর সন্ধান পাওয়া গেছে এই শিক্ষাবোর্ডে। আর তিনি হলেন মিলন খন্দকার। পুরো নাম আলমগীর হোসেন তবে মিলন খন্দকার নামেই বেশী পরিচিত। একসময় কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে দরিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা এই ব্যক্তি বর্তমানে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। রাজধানী ঢাকায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের একজন সাধারণ কর্মচারী হয়েও গড়ে তুলেছেন- বিপুল পরিমাণ সম্পদ। যা নিয়ে মিলনের নিজ গ্রাম ও অফিসে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পদ ছোট হলেও মিলন গত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার আমলে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতা তৈরি করে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে নিয়োগ, বদলি বানিজ্য, জাল সার্টিফিকেট ও মার্কসিট পরিবর্তন করে ফেল করা ছাত্রদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পাশ করানোর এক শক্তিশালি সিন্ডিকেট তৈরি করে যা- এখনো চলমান আছে বলে জানা যাচ্ছে। আর এই অবৈধ অর্থ দিয়ে এলাকার আওয়ামী সরকারের মনোনিত যে কোন ক্যান্ডিডেটের পেছনে খরচ করতেন অঢেল সম্পদ।
আবার এখন ভোল পাল্টিয়ে রীতিমত বিএনপি মনা হয়ে উঠেছেন। তাই, কেউ কেউ বলছেন, মিলনেরা আসলে মুখোশধারী। যখন যে ক্ষমতায় আসে, তখন সেই স্রোতে গাঁ ভাসায়।
মিলন খন্দকারের পেশাগত যাত্রা শুরু হয় ঢাকার বকশি বাজার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড অফিসের ছোট একটি পদ থেকে। মাত্র এক যুগ আগেও তার নিজের ও শ্বশুরবাড়ির আর্থিক অবস্থা ছিল নাজুক। পরিবারের সবাই সীমিত আয়, কৃষি শ্রমিক ও বর্গা জমিজমা চাষের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে মিলন চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। অনিয়ম ও দুর্নীতি তাকে দ্রুতই অঢেল সম্পদের মালিক করে তুলেছে।
রাজবাড়ী'র কালুখালী উপজেলা বল্লভপুর গ্রামের বাসিন্দা হাসেম খন্দকার, তাঁর চার ছেলের মধ্যে মিলন তৃতীয়। আগে দিন-পাত চলতো না, মিলনের চাকরি পাওয়ার পর থেকে উচ্চ-বিত্ত পরিবার হয়ে উঠেছেন তারা। কি করেননি গ্রামে, পাকাবাড়ি ছারাও তাঁর অর্থায়নে অন্য আরেক ভাইয়ের ৩ তলা বিল্ডিংয়ের কাজ চলমান। জনশ্রুতি আছে, এলাকা ও কালুখালী উপজেলা শহরে কিনেছেন বেশ কিছু জমি এবং উপজেলা শহরে রেন্ট-এ কারে তার একটি গাড়ি ভাড়া দেওয়া রয়েছে। তিনি উচ্চ বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন। তাঁর যাতায়াত ও বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়া আসার জন্য রয়েছে আরেকটি প্রাইভেট কার। ছোট পদে চাকরী করে গাড়ি নিয়ে বাড়ি যাওয়া আসা করায় এলাকাবাসীর মধ্যে অনেক আগে থেকেই ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকায় নিজের বাড়ি মিরপুর ১, বশিরউদ্দিন রোডস্থ পাইকপাড়ায়।
নিজের প্রাইভেট কার, জমির শেয়ার ও ব্যবসা আছে।
মিলন লেখাপড়ায় অতি দুর্বল ছাত্র, উন্মুক্ত থেকে কোনমতে পড়াশোনা করে এই চাকুরিটি বাগিয়ে নিয়েছে। চাকরিদাতা মুস্তাফিজুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সিনিয়র অফিসার- ঐ সময় মিলনসহ বল্লভপুর গ্রামের আরো দুই জনকে চাকুরী দিয়েছেন, তাঁরা হলেন; ফরিদ ও জাকির।
জানতে চাইলে তার নিজগ্রাম ভল্লবপুর পীর বাড়ির এক ব্যক্তি বলেন, কয়দিন আগেও ঠিকমত ভাত পেত না, সেই লোক এখন নিজস্ব গাড়ি নিয়ে চলাচল করে। বাড়িতে এলে দলবল নিয়ে চলাচল করে, তাদের পিছনে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করেন। শুনেছি কয়দিন আগে তাঁর মেয়ের ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসার জন্য এ্যাপোলো হাসপাতালে ৪২ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন এই মিলন। এতো টাকার উৎস কি? মেয়েকে বিলাসবহুল হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে অর্থের উৎস্য কোথায়? আগে, এমন কোন আওয়ামী লীগ নেতা নাই- যার নাম মিলন বিক্রি করে নাই। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এখন, রাজবাড়ী -১ আসনের সাবেক বিএনপি'র এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এর নাম বিক্রি করছেন বলে শোনা যায়।অনুসন্ধনে জানা যায়, ধূর্ত মিলন খন্দকার, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিব) সভাপতি ডক্টর ইকবাল আর্সালনের নাম বিক্রি করতেন।
মিলন খন্দকার, আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রাথী পাংশা পৌরসভার চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলী মন্ডলের নির্বাচনের সময়, সৌজন্যে মিলন খন্দকার সম্মিলিত নাম যুক্ত উন্নতমানের ব্যাচ বানিয়ে দিয়েছেন লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে। অর্ধ শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষে তিনি বিগত সময়ে নিয়মিত তাঁর নিজের ফেসবুক থেকে প্রচারণা চালিয়ে পোস্ট করেছে। সেগুলোর সকল তথ্য প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, তার এবং পরিবারের কাছে এখন বিলাসবহুল গাড়ি, লাখের বেশি টাকার দামি ফোন এবং স্বর্ণালঙ্কারের অভাব নেই। এমনকি রাজবাড়ী ও ঢাকায় তার উল্লেখযোগ্য ব্যবসার শেয়ার রয়েছে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সরকারি সেবার নামে নানা অজুহাতে অর্থ আদায় করে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।
মিলনের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে বিভাগীয় মামলা হতে পারে এমন গুঞ্জনও উঠেছে। জনশ্রুতি আছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই অভিযোগ জমা পড়েছে।
অনেক আগেই দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত মিলনের চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার কথা ছিল। অদৃশ্য কারণে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে ক্ষমতা ও প্রভাবে তার হয়নি। মিলনের গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, তার বাবা ছিলেন একজন অতি দরিদ্র ডাক পিয়ন, সামান্য বেতনের টাকার সংসার চালাতে না পেরে কৃষি কাজও করতেন। পরিবারের অন্য ৩ ভাইয়েরা শ্রমিক ও সামান্য চাকরির মাধ্যমে জীবনযাপন করেন। অথচ মিলনের সম্পদের পরিমাণ এত বেশি যে, তার জীবনযাত্রা আর দশজনের সঙ্গে মেলে না।
একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর পক্ষে এ ধরনের অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। এলাকাবাসীর দাবি, এই অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এই প্রতিবেদকের হাতে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য প্রমাণ থাকার পারেও, তিনি সকল বিষয় অস্বীকার করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মরত কর্মচারীদের এই ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু স্থানীয় প্রশাসনের নয়, গোটা দেশের সুশাসনের জন্য হুমকি। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত ও সুষ্ঠু পদক্ষেপই কেবল এই ধরনের অনিয়মের লাগাম টানতে পারে।