এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলালকে ঘিরে বিতর্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯-৮-২০২৬ রাত ১১:৫৩
এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলালকে ঘিরে বিতর্ক
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনকে ঘিরে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি এবং প্রশাসনিক অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। এ ছাড়া তিনি পদায়ন নীতিমালা লঙ্ঘন করে একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিজ জেলায় পদায়ন করেছেন, যা এলজিইডির ইতিহাসে প্রথম। সেই পদায়নে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। নানা বিতর্কে জর্জরিত এই প্রধান প্রকৌশলী মেয়াদ শেষে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।
জানা গেছে, মো. বেলাল হোসেন ১৯৯২ সালে এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী পদে উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিএনপি, আওয়ামী লীগ্লÑ সব আমলেই ‘দুধের মাছি’ বলে পরিচিত। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি তিনি প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পেয়ে কর্মরত রয়েছেন।
প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার পর বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্যের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। জেলার কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমাদের সময়কে বলেছেন, ‘যেহেতু এই ডিপার্টমেন্টে চাকরি করি, চাকরিবিধি অনুযায়ী অভিযোগ করার সুযোগ নেই। তাই সবকিছু জানার পরও বলতে পারি না। ৫ আগস্ট পরবর্তী জেলাভেদে বদলিতে ২০ লাখ থেকে ১ কোটি লেনদেন হয়েছে।’
গত ১৬ জুলাই প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিজ জেলায় পদায়ন করা হয়। এ ঘটনা নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদায়নে নীতিমালা পরিপন্থী। স্থানীয় সরকার বিভাগের বদলি পদায়ন বিধিমালার ১(ক) এবং ১(ঙ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-মাঠ পর্যায়ের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ, বিশেষত নির্বাহী প্রকৌশলী পদে কোনো কর্মকর্তাকে কোনো অবস্থাতে তার নিজ জেলা বা তার স্বামী বা স্ত্রীর জেলায় পদায়ন করা যাবে না।
এই বিধি ভঙ্গ করে জাহানারা পারভীন নামের ওই নির্বাহী প্রকৌশলীর পদায়নে নিয়ম মানা হয়নি। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া গ্রামে জাহানারা পারভীনের বাড়ি। তার স্বামী ঠিকাদার শামছুল বারী একই গ্রামের আবদুল আজিজের ছেলে। অভিযোগ উঠেছে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই পদায়ন ঘটেছে। এ ছাড়া সম্প্রতি ৪১ নির্বাহী প্রকৌশলীর পদায়নে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। কিন্তু এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
সম্প্রতি পদ্মার পশ্চিম পাড়ের একটি জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী বদলি নিয়ে ঘটেছে নাটকীয় ঘটনা। প্রথমে ৬ জুলাই একজনকে নির্বাহী প্রকৌশলী বদলি করা হয়। তিনি যোগদানের আগেই তার বদলির আদেশ বাতিল করা হয়। গত ১৬ জুলাই সেই আদেশ বাতিল করে নতুন করে আরও একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
জানা গেছে, প্রথমে যাকে বদলি করা হয়েছিল তিনি চাহিদা মাফিক টাকা দিতে না পারায় তাকে সেখানে যোগদান থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। দুজনের চাকরির নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এ রকম আরও অনেকের বদলিতে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদের অভিযোগ উঠেছে বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন।
বদলি বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, ‘পদোন্নতি হয় কমিটির সুপারিশে এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে। এখানে আমার কোনো হাত নেই। জেলা-উপজেলায় ফ্যাসিস্ট সরকারের কিছু সহযোগী অথবা সরকারের উন্নয়ন কাজে অসহযোগী কিছু লোক থাকতে পারে। তাদের বদলি করা হলে তারা এ ধরনের অভিযোগ তুলতেই পারে।’
এলজিইডি ঢাকা জেলার দায়িত্বে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তার নিকট আত্মীয় বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, ‘একজন নির্বাহী প্রকৌশলী আমার বন্ধু। অফিস সময়ের পর তার সঙ্গে আড্ডা দেই, এ জন্য কিছুলোক এ রকম অভিযোগ দাখিল করতে পারে।’
আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ : প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার আগে তিনি যখন নির্বাহী প্রকৌশলী প্রশাসন এবং বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেছেন তখন থেকেই তার বিরুদ্ধে প্রকল্প থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা এবং নিজ জেলায় একাধিক সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রংপুর সার্কিট হাউসের সামনে ১০ কাঠা জায়গার ওপর ৬ তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। রংপুর সার্কিট হাউসের বিপরীত পাশে রোড-০১, বাড়ি-১৯ এই ভবন নিজের বলে দাবি করেছেন প্রধান প্রকৌশলী। এ ছাড়া মিরপুরের পল্লবীতে ২ হাজার বর্গফুটের দুটি ফ্ল্যাট, রংপুর মেডিক্যাল কলেজের পেছনে দশ বিঘা জমি এবং কুড়িগ্রামে ৭০ বিঘা কৃষিজমি কেনার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী আমাদের সময়কে বলেন, ‘রংপুরের বাড়িটি (সার্কিট হাউসের সামনে) আমার। আমার এক ভাই বিদেশ থাকেন তার টাকা দিয়েই করেছি।’ তাহলে বাড়ি কী আপনার ভাইয়ের? এর জবাবে বলেন, ‘ ‘না বাড়ি আমার। যা আমার আয়কর বিরণীতে রয়েছে।’ তবে তার এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তার ভাইয়ের টাকায় না। এটা প্রধান প্রকৌশলীর টাকায় নির্মিত বাড়ি। এ ছাড়া রাজধানীর মিরপুর ২ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। বসুন্ধরায় প্লটের অভিযোগ পাওয়া গেলেও প্রধান প্রকৌশলী বলেন, ‘বসুন্ধরায় আমার কোনো কিছু নেই। আয়কর বিবরণীতে প্রদত্ত সম্পদ ছাড়া আমার কোনো সহায় সম্পদ নেই।’
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বরাবর অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন অতীতে ছাত্রজীবনে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি বর্তমান পদে আসেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান প্রথমে তাকে প্রধান প্রকৌশলী পদে পদায়নের ব্যাপারে নেতিবাচক ছিলেন। পরে ইসলামী আদর্শের একটি রাজনৈতিক দলের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তির সুপারিশে বেলাল হোসেনকে প্রধান প্রকৌশলী করা হয়।
নিজের পদোন্নতি নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ‘আমার পদোন্নতি ও নিয়োগ হয়েছে এনএসআই, এসবি, দুদক ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট ও চাকরির রিপোর্ট এবং এসিআরের ভিত্তিতে। এসব হয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে শক্তিশালী এসএসবি কমিটির মাধ্যমে। কেউ ইচ্ছা করলেই তার পদোন্নতি হয় না।’
বেলাল হোসেন প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার পর জেলা, উপজেলা পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদায়ন করেছেন। এতে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এলজিইডির প্রশাসন শাখার তথ্যমতে, চলতি বছর মার্চ মাসে ৯০ জন কার্য সহকারীকে সার্ভেয়ার (চলতি দায়িত্ব) দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩ লাখ করে ২ কোটি ৭০ লাখ এবং ১৩৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে চলতি দায়িত্ব পদে পদোন্নতির দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫ লাখ করে ৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। প্রধান প্রকৌশলীর এ কাজে সহায়তা করেছেন একজন নির্বাহী প্রকৌশলী এবং তার ড্রাইভার।
এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন বলেন, সার্ভেয়ার ও সহকারী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব প্রদান একটি রুটিন দায়িত্ব। কমিটির সুপারিশে এটি হয়। কাউকে বাদ দিয়ে অন্য জনকে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করে সন্তুষ্ট হয়ে সহকারী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব প্রদান অনুমোদন দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের কদম রসুল ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৫০ কোটি টাকা কমিশন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পটি ছিল ৯০০ কোটি টাকার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি পিডি থাকাকালীন এই ব্রিজের ঠিকাদার নিয়োগ হয়নি। ২০% এর মত নিম্ন দরে কাজ নিয়ে ঠিকাদার নিজেই কাজটি করতে অনাগ্রহী ছিল। ঠিকাদার নিয়োগ আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁয়ার অনুমোদনে হয়েছে।’ এলকেএসএস প্রকল্পে নিয়োগে বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এই প্রকল্পে নিয়োগের টেন্ডার হয় পিডি অফিস থেকে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯-৮-২০২৬ রাত ১১:৫৩
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনকে ঘিরে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি এবং প্রশাসনিক অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। এ ছাড়া তিনি পদায়ন নীতিমালা লঙ্ঘন করে একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিজ জেলায় পদায়ন করেছেন, যা এলজিইডির ইতিহাসে প্রথম। সেই পদায়নে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। নানা বিতর্কে জর্জরিত এই প্রধান প্রকৌশলী মেয়াদ শেষে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।
জানা গেছে, মো. বেলাল হোসেন ১৯৯২ সালে এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী পদে উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিএনপি, আওয়ামী লীগ্লÑ সব আমলেই ‘দুধের মাছি’ বলে পরিচিত। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি তিনি প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পেয়ে কর্মরত রয়েছেন।
প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার পর বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্যের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। জেলার কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমাদের সময়কে বলেছেন, ‘যেহেতু এই ডিপার্টমেন্টে চাকরি করি, চাকরিবিধি অনুযায়ী অভিযোগ করার সুযোগ নেই। তাই সবকিছু জানার পরও বলতে পারি না। ৫ আগস্ট পরবর্তী জেলাভেদে বদলিতে ২০ লাখ থেকে ১ কোটি লেনদেন হয়েছে।’
গত ১৬ জুলাই প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিজ জেলায় পদায়ন করা হয়। এ ঘটনা নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদায়নে নীতিমালা পরিপন্থী। স্থানীয় সরকার বিভাগের বদলি পদায়ন বিধিমালার ১(ক) এবং ১(ঙ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-মাঠ পর্যায়ের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ, বিশেষত নির্বাহী প্রকৌশলী পদে কোনো কর্মকর্তাকে কোনো অবস্থাতে তার নিজ জেলা বা তার স্বামী বা স্ত্রীর জেলায় পদায়ন করা যাবে না।
এই বিধি ভঙ্গ করে জাহানারা পারভীন নামের ওই নির্বাহী প্রকৌশলীর পদায়নে নিয়ম মানা হয়নি। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া গ্রামে জাহানারা পারভীনের বাড়ি। তার স্বামী ঠিকাদার শামছুল বারী একই গ্রামের আবদুল আজিজের ছেলে। অভিযোগ উঠেছে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই পদায়ন ঘটেছে। এ ছাড়া সম্প্রতি ৪১ নির্বাহী প্রকৌশলীর পদায়নে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। কিন্তু এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
সম্প্রতি পদ্মার পশ্চিম পাড়ের একটি জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী বদলি নিয়ে ঘটেছে নাটকীয় ঘটনা। প্রথমে ৬ জুলাই একজনকে নির্বাহী প্রকৌশলী বদলি করা হয়। তিনি যোগদানের আগেই তার বদলির আদেশ বাতিল করা হয়। গত ১৬ জুলাই সেই আদেশ বাতিল করে নতুন করে আরও একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
জানা গেছে, প্রথমে যাকে বদলি করা হয়েছিল তিনি চাহিদা মাফিক টাকা দিতে না পারায় তাকে সেখানে যোগদান থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। দুজনের চাকরির নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এ রকম আরও অনেকের বদলিতে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদের অভিযোগ উঠেছে বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন।
বদলি বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, ‘পদোন্নতি হয় কমিটির সুপারিশে এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে। এখানে আমার কোনো হাত নেই। জেলা-উপজেলায় ফ্যাসিস্ট সরকারের কিছু সহযোগী অথবা সরকারের উন্নয়ন কাজে অসহযোগী কিছু লোক থাকতে পারে। তাদের বদলি করা হলে তারা এ ধরনের অভিযোগ তুলতেই পারে।’
এলজিইডি ঢাকা জেলার দায়িত্বে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তার নিকট আত্মীয় বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, ‘একজন নির্বাহী প্রকৌশলী আমার বন্ধু। অফিস সময়ের পর তার সঙ্গে আড্ডা দেই, এ জন্য কিছুলোক এ রকম অভিযোগ দাখিল করতে পারে।’
আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ : প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার আগে তিনি যখন নির্বাহী প্রকৌশলী প্রশাসন এবং বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেছেন তখন থেকেই তার বিরুদ্ধে প্রকল্প থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা এবং নিজ জেলায় একাধিক সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রংপুর সার্কিট হাউসের সামনে ১০ কাঠা জায়গার ওপর ৬ তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। রংপুর সার্কিট হাউসের বিপরীত পাশে রোড-০১, বাড়ি-১৯ এই ভবন নিজের বলে দাবি করেছেন প্রধান প্রকৌশলী। এ ছাড়া মিরপুরের পল্লবীতে ২ হাজার বর্গফুটের দুটি ফ্ল্যাট, রংপুর মেডিক্যাল কলেজের পেছনে দশ বিঘা জমি এবং কুড়িগ্রামে ৭০ বিঘা কৃষিজমি কেনার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী আমাদের সময়কে বলেন, ‘রংপুরের বাড়িটি (সার্কিট হাউসের সামনে) আমার। আমার এক ভাই বিদেশ থাকেন তার টাকা দিয়েই করেছি।’ তাহলে বাড়ি কী আপনার ভাইয়ের? এর জবাবে বলেন, ‘ ‘না বাড়ি আমার। যা আমার আয়কর বিরণীতে রয়েছে।’ তবে তার এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তার ভাইয়ের টাকায় না। এটা প্রধান প্রকৌশলীর টাকায় নির্মিত বাড়ি। এ ছাড়া রাজধানীর মিরপুর ২ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। বসুন্ধরায় প্লটের অভিযোগ পাওয়া গেলেও প্রধান প্রকৌশলী বলেন, ‘বসুন্ধরায় আমার কোনো কিছু নেই। আয়কর বিবরণীতে প্রদত্ত সম্পদ ছাড়া আমার কোনো সহায় সম্পদ নেই।’
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বরাবর অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন অতীতে ছাত্রজীবনে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি বর্তমান পদে আসেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান প্রথমে তাকে প্রধান প্রকৌশলী পদে পদায়নের ব্যাপারে নেতিবাচক ছিলেন। পরে ইসলামী আদর্শের একটি রাজনৈতিক দলের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তির সুপারিশে বেলাল হোসেনকে প্রধান প্রকৌশলী করা হয়।
নিজের পদোন্নতি নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ‘আমার পদোন্নতি ও নিয়োগ হয়েছে এনএসআই, এসবি, দুদক ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট ও চাকরির রিপোর্ট এবং এসিআরের ভিত্তিতে। এসব হয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে শক্তিশালী এসএসবি কমিটির মাধ্যমে। কেউ ইচ্ছা করলেই তার পদোন্নতি হয় না।’
বেলাল হোসেন প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার পর জেলা, উপজেলা পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদায়ন করেছেন। এতে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এলজিইডির প্রশাসন শাখার তথ্যমতে, চলতি বছর মার্চ মাসে ৯০ জন কার্য সহকারীকে সার্ভেয়ার (চলতি দায়িত্ব) দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩ লাখ করে ২ কোটি ৭০ লাখ এবং ১৩৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে চলতি দায়িত্ব পদে পদোন্নতির দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫ লাখ করে ৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। প্রধান প্রকৌশলীর এ কাজে সহায়তা করেছেন একজন নির্বাহী প্রকৌশলী এবং তার ড্রাইভার।
এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন বলেন, সার্ভেয়ার ও সহকারী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব প্রদান একটি রুটিন দায়িত্ব। কমিটির সুপারিশে এটি হয়। কাউকে বাদ দিয়ে অন্য জনকে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করে সন্তুষ্ট হয়ে সহকারী প্রকৌশলী চলতি দায়িত্ব প্রদান অনুমোদন দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের কদম রসুল ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৫০ কোটি টাকা কমিশন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পটি ছিল ৯০০ কোটি টাকার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি পিডি থাকাকালীন এই ব্রিজের ঠিকাদার নিয়োগ হয়নি। ২০% এর মত নিম্ন দরে কাজ নিয়ে ঠিকাদার নিজেই কাজটি করতে অনাগ্রহী ছিল। ঠিকাদার নিয়োগ আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁয়ার অনুমোদনে হয়েছে।’ এলকেএসএস প্রকল্পে নিয়োগে বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এই প্রকল্পে নিয়োগের টেন্ডার হয় পিডি অফিস থেকে।