আবারও ঘুষ বাণিজ্যে বিআরটিএ’র প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেন
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫-৯-২০২৬ বিকাল ৬:২৮
আবারও ঘুষ বাণিজ্যে বিআরটিএ’র প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেন
নানা অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে আবারও আলোচনায় এসেছে চট্টগ্রামের বিআরটিএ হালিশহর অফিসের (মেট্রো ১ সার্কেলের) উপপরিচালক প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেন। অনৈতিক ফায়দা হাসিলের মাধ্যমে অবৈধভাবে স্লিপার কোচের রেজিস্ট্রেশন প্রদান, আমদানি ফাইল ছাড়া কাটা গাড়ির নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন, ফিটনেস ইস্যুসহ যাবতীয় কাজে চিহ্নিত দালালের মাধ্যমে ঘুষ গ্রহণ, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি ও আদায়কৃত ঘুষের অর্থ পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের লালন পালন ও সরকার বিরোধী কাজে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠেছে। এসব বিষয়ে সম্প্রতি সড়ক পরিবহন মন্ত্রী, দুদক চেয়ারম্যান ও বিআরটিএ চেয়ারম্যানসহ একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযেগ করেছেন বাংলাদেশ সিএনজি অটোরিকশা হালকাযান পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন (রেজি নং- বি ২১৮১) চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন। তবে এসব অিভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিআরটিএ চট্টগ্রামের হালিশহর কার্যালয়ের উপপরিচালক প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেন ২০১৬ সাল থেকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, পদোন্নতি পেয়ে উপপরিচালক হলেও বহাল ছিলেন একই চেয়ারে। বর্তমানে হালিশহর বিআরটিএ কার্যালয়ে উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার কারণে সিএনজি স্ক্র্যাপিং, নম্বর প্রতিস্থাপন, যানবাহন নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন, আমদানি-সংক্রান্ত ফাইল এবং বিভিন্ন অনুমোদন কার্যক্রমে তার ভূমিকা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এসব কার্যক্রমে ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম, দালালনির্ভরতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা নথিপত্র, সরকারি রেকর্ড, আর্থিক তথ্য ও অন্যান্য বিষয় আইনানুগভাবে সংগ্রহযোগ্য প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগে বলেন, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে পুরাতন ফোর-স্ট্রোক অটোরিকশা প্রতিস্থাপন কার্যক্রমে সিএনজি প্রতি স্ক্র্যাপিংয়ে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ এবং নিবন্ধনে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। ফলে ২০১৮-২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিস্থাপিত প্রতিটি গাড়ির পূর্ণাঙ্গ তালিকা, স্লিপিং রেকর্ড, স্ক্র্যাপিংয়ের প্রমাণ, নতুন নিবন্ধনের নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুমোদন যাচাই করা প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে কখনোই তার অনিমের তদন্ত করা হয়নি। ২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর এসব অনিয়মের অভিযোগে একপর্যায়ে হালিশহর বিআরটিএ থেকে ময়মনসিংহে বদলি করা হলেও রহস্যজনক কারণে কিছুদিনের মধ্যেই পূর্বের কর্মস্থলে ফিরে আসেন। যোগদানের পর কিছুদিন সৎভাবে কাজ করলেও আবারও আগের মতোই ঘুষের স্বর্গরাজ্য বানিয়েছে বিআরটিএ কার্যালয়টিকে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি প্রচলিত নিয়ম না মেনে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে প্রকৃত মালিকের অনুপস্থিতিতে শতশত গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে গাড়িপ্রতি প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। গত এক বছরে সম্পন্ন হওয়া মালিকানা পরিবর্তনের ফাইলসমূহ পরীক্ষা করে ক্রেতা-বিক্রেতার ছবি, বায়োমেট্রিক তথ্য, আবেদনপত্র, দলিলপত্র এবং অনুমোদনের তথ্য মিলিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে।
পিকআপ, ট্রাক, কভারভ্যান ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রকৃত আমদানি ও কাস্টমস-সংক্রান্ত নথিতে জটিলতা থাকলেও ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। সত্যতা যাচাইয়ে গত এক বছরে নিবন্ধিত এসব যানবাহনের ফাইল (বিল অব এন্ট্রি, কাস্টমস নথি, ইনভয়েস, আমদানি-সংক্রান্ত কাগজপত্র, চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর এবং বিআরটিএর নিবন্ধন ফাইল) পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অভিযোগে আরো বলেন, নিয়মের বাইরে গিয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫টি স্লিপার বাস অনুমোদনের ক্ষেত্রে গাড়িপ্রতি আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের জন্য টাকা পাচারের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেনের সংশ্লিষ্টতা থাকা বিআরটিএ’র বিভিন্ন কার্যক্রমে ঘুষ হিসেবে আদায় করা অর্থের একটি অংশ ফুরকানের মাধ্যমে প্রবীণ পালের কাছে পৌঁছানো হতো এবং পরবর্তীতে প্রবীণ পালের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের কাছে ওই অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আর সেই অর্থ সরকার বিরোধী আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা বা সহায়তায় ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন এবং তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, এছাড়া তার পিতা ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত আর্থিক অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এসব সম্পর্ক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, বদলি-পদায়ন, দায়িত্ব পালনে প্রভাব অথবা অভিযোগকারীদের ওপর চাপ প্রয়োগে কোনো ভূমিকা রেখেছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ রয়েছে, বিআরটিএর অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে অভিযোগকারী ব্যক্তি ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ ও হয়রানি করা হয়েছে। কার নির্দেশে, কার মাধ্যমে এবং কী উদ্দেশ্যে এসব চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট নথি, যোগাযোগের তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করার আবেদন জানানো হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সহকারী পরিচালক (এডি) আনোয়ার হোসেন ও কম্পিউটার অপারেটর মোহাম্মদ দিদার তৗহিদুল হোসেনের অন্যতম সহযোগী হিসেবে ২০১৬ সাল থেকে কাজ করছেন। পরবর্তীতে হালিশহর কার্যালয়েও একসঙ্গেই আছেন। তৌহিদুল হোসেনের অবৈধ অর্থ সংগ্রহ ও হিসাব সংরক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি রুবেল দাস। গুরুত্ব বিবেচনায় হালিশহর বিআরটিএ কার্যালয়ের সাম্প্রতিক সিসিটিভি ফুটেজ দ্রুত সংরক্ষণ করা প্রয়োজন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে বিআরটিএ হালিশহর কার্যালয়ের (চট্টগ্রাম মেট্রো সার্কেল ১) উপপরিচালক প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেন বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমার সাথে শত্রুতা করে কেউ এমন অভিযোগ দিয়েছে। ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি মিথ্যা বলে দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ সিএনজি অটোরিকশা হালকাযান পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন (রেজি নং- বি ২১৮১) চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন বলেন, সরকারের বৃহত্তর স্বার্থে আনিত অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্তের স্বার্থে এই মুহুর্তে আর কিছু বলব না।
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫-৯-২০২৬ বিকাল ৬:২৮
নানা অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে আবারও আলোচনায় এসেছে চট্টগ্রামের বিআরটিএ হালিশহর অফিসের (মেট্রো ১ সার্কেলের) উপপরিচালক প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেন। অনৈতিক ফায়দা হাসিলের মাধ্যমে অবৈধভাবে স্লিপার কোচের রেজিস্ট্রেশন প্রদান, আমদানি ফাইল ছাড়া কাটা গাড়ির নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন, ফিটনেস ইস্যুসহ যাবতীয় কাজে চিহ্নিত দালালের মাধ্যমে ঘুষ গ্রহণ, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি ও আদায়কৃত ঘুষের অর্থ পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের লালন পালন ও সরকার বিরোধী কাজে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠেছে। এসব বিষয়ে সম্প্রতি সড়ক পরিবহন মন্ত্রী, দুদক চেয়ারম্যান ও বিআরটিএ চেয়ারম্যানসহ একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযেগ করেছেন বাংলাদেশ সিএনজি অটোরিকশা হালকাযান পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন (রেজি নং- বি ২১৮১) চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন। তবে এসব অিভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিআরটিএ চট্টগ্রামের হালিশহর কার্যালয়ের উপপরিচালক প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেন ২০১৬ সাল থেকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, পদোন্নতি পেয়ে উপপরিচালক হলেও বহাল ছিলেন একই চেয়ারে। বর্তমানে হালিশহর বিআরটিএ কার্যালয়ে উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার কারণে সিএনজি স্ক্র্যাপিং, নম্বর প্রতিস্থাপন, যানবাহন নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন, আমদানি-সংক্রান্ত ফাইল এবং বিভিন্ন অনুমোদন কার্যক্রমে তার ভূমিকা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এসব কার্যক্রমে ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম, দালালনির্ভরতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা নথিপত্র, সরকারি রেকর্ড, আর্থিক তথ্য ও অন্যান্য বিষয় আইনানুগভাবে সংগ্রহযোগ্য প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগে বলেন, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে পুরাতন ফোর-স্ট্রোক অটোরিকশা প্রতিস্থাপন কার্যক্রমে সিএনজি প্রতি স্ক্র্যাপিংয়ে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ এবং নিবন্ধনে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। ফলে ২০১৮-২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিস্থাপিত প্রতিটি গাড়ির পূর্ণাঙ্গ তালিকা, স্লিপিং রেকর্ড, স্ক্র্যাপিংয়ের প্রমাণ, নতুন নিবন্ধনের নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুমোদন যাচাই করা প্রয়োজন।
আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে কখনোই তার অনিমের তদন্ত করা হয়নি। ২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর এসব অনিয়মের অভিযোগে একপর্যায়ে হালিশহর বিআরটিএ থেকে ময়মনসিংহে বদলি করা হলেও রহস্যজনক কারণে কিছুদিনের মধ্যেই পূর্বের কর্মস্থলে ফিরে আসেন। যোগদানের পর কিছুদিন সৎভাবে কাজ করলেও আবারও আগের মতোই ঘুষের স্বর্গরাজ্য বানিয়েছে বিআরটিএ কার্যালয়টিকে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি প্রচলিত নিয়ম না মেনে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে প্রকৃত মালিকের অনুপস্থিতিতে শতশত গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে গাড়িপ্রতি প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। গত এক বছরে সম্পন্ন হওয়া মালিকানা পরিবর্তনের ফাইলসমূহ পরীক্ষা করে ক্রেতা-বিক্রেতার ছবি, বায়োমেট্রিক তথ্য, আবেদনপত্র, দলিলপত্র এবং অনুমোদনের তথ্য মিলিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে।
পিকআপ, ট্রাক, কভারভ্যান ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রকৃত আমদানি ও কাস্টমস-সংক্রান্ত নথিতে জটিলতা থাকলেও ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। সত্যতা যাচাইয়ে গত এক বছরে নিবন্ধিত এসব যানবাহনের ফাইল (বিল অব এন্ট্রি, কাস্টমস নথি, ইনভয়েস, আমদানি-সংক্রান্ত কাগজপত্র, চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর এবং বিআরটিএর নিবন্ধন ফাইল) পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অভিযোগে আরো বলেন, নিয়মের বাইরে গিয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫টি স্লিপার বাস অনুমোদনের ক্ষেত্রে গাড়িপ্রতি আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের জন্য টাকা পাচারের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেনের সংশ্লিষ্টতা থাকা বিআরটিএ’র বিভিন্ন কার্যক্রমে ঘুষ হিসেবে আদায় করা অর্থের একটি অংশ ফুরকানের মাধ্যমে প্রবীণ পালের কাছে পৌঁছানো হতো এবং পরবর্তীতে প্রবীণ পালের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের কাছে ওই অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আর সেই অর্থ সরকার বিরোধী আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা বা সহায়তায় ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন এবং তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, এছাড়া তার পিতা ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত আর্থিক অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এসব সম্পর্ক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, বদলি-পদায়ন, দায়িত্ব পালনে প্রভাব অথবা অভিযোগকারীদের ওপর চাপ প্রয়োগে কোনো ভূমিকা রেখেছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ রয়েছে, বিআরটিএর অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে অভিযোগকারী ব্যক্তি ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ ও হয়রানি করা হয়েছে। কার নির্দেশে, কার মাধ্যমে এবং কী উদ্দেশ্যে এসব চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট নথি, যোগাযোগের তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করার আবেদন জানানো হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সহকারী পরিচালক (এডি) আনোয়ার হোসেন ও কম্পিউটার অপারেটর মোহাম্মদ দিদার তৗহিদুল হোসেনের অন্যতম সহযোগী হিসেবে ২০১৬ সাল থেকে কাজ করছেন। পরবর্তীতে হালিশহর কার্যালয়েও একসঙ্গেই আছেন। তৌহিদুল হোসেনের অবৈধ অর্থ সংগ্রহ ও হিসাব সংরক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি রুবেল দাস। গুরুত্ব বিবেচনায় হালিশহর বিআরটিএ কার্যালয়ের সাম্প্রতিক সিসিটিভি ফুটেজ দ্রুত সংরক্ষণ করা প্রয়োজন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে বিআরটিএ হালিশহর কার্যালয়ের (চট্টগ্রাম মেট্রো সার্কেল ১) উপপরিচালক প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেন বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমার সাথে শত্রুতা করে কেউ এমন অভিযোগ দিয়েছে। ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি মিথ্যা বলে দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ সিএনজি অটোরিকশা হালকাযান পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন (রেজি নং- বি ২১৮১) চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন বলেন, সরকারের বৃহত্তর স্বার্থে আনিত অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্তের স্বার্থে এই মুহুর্তে আর কিছু বলব না।