শাহজালালের থার্ড টার্মিনালের মালামাল চুরির অভিযোগ, মামলা না দিয়ে মুচলেকায় মুক্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪-১১-২০২৬ বিকাল ৫:১৭
শাহজালালের থার্ড টার্মিনালের মালামাল চুরির অভিযোগ, মামলা না দিয়ে মুচলেকায় মুক্তি
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের মালামাল চুরি করে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মালামালসহ ট্রাক ও চালককে আটক করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়নি। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিজস্ব ব্যবস্থায় মালামাল উদ্ধার এবং ট্রাক ও চালককে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
ঘটনার সঙ্গে বেবিচকের ই-এম হেলপার হিসেবে পরিচিত বাসারের নাম উঠে এসেছে। পাশাপাশি এক সাব-কন্ট্রাক্টরের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তবে এ ঘটনায় তাঁদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর ট্রাক ও চালককে কয়েক দিন আটকে রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে শর্তসাপেক্ষে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং উদ্ধার করা মালামাল যথাস্থানে ফেরত দেওয়া হয়। তবে মালামালের আর্থিক মূল্য নিয়ে দুই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। একটি সূত্রে মালামালের মূল্য ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং অন্য একটি সূত্রে ৮০ হাজার টাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে উদ্ধারকৃত সামগ্রীর প্রকৃত মূল্য নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।
আইন অনুযায়ী, অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার ধরন বিবেচনায় বাংলাদেশের দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩৭৯ ধারায় চুরির অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছর এবং ৩৮০ ধারায় নির্দিষ্ট স্থাপনা থেকে চুরির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। কর্মচারীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মালামাল চুরির প্রমাণ মিললে ৩৮১ ধারাও প্রযোজ্য হতে পারে। তবে এমন গুরুতর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নিয়মিত ফৌজদারি মামলা না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে ঘটনাটির তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন বেবিচকের উপপরিচালক নজরুল ইসলাম। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিনিয়র অফিসার মো. রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, থার্ড টার্মিনালের সাবেক নিরাপত্তাপ্রধান (চলতি দায়িত্ব) নজরুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন এবং এখনো তিনি এ তদন্তের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দৈনিক সকালের সময় পত্রিকায় ‘একাধিক মামলা-তদন্তের নথিতে নাম: শাহজালালের ডিডি নজরুলকে নিয়ে নানা প্রশ্ন’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এ প্রেক্ষাপটে বর্তমান ঘটনার তদন্তের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে ই-এম হেলপার বাসার ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
সচেতন মহলের মতে, বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তাসংবেদনশীল স্থাপনায় এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শুধু মালামাল উদ্ধার ও প্রশাসনিক নিষ্পত্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪-১১-২০২৬ বিকাল ৫:১৭
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের মালামাল চুরি করে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মালামালসহ ট্রাক ও চালককে আটক করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়নি। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিজস্ব ব্যবস্থায় মালামাল উদ্ধার এবং ট্রাক ও চালককে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
ঘটনার সঙ্গে বেবিচকের ই-এম হেলপার হিসেবে পরিচিত বাসারের নাম উঠে এসেছে। পাশাপাশি এক সাব-কন্ট্রাক্টরের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তবে এ ঘটনায় তাঁদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর ট্রাক ও চালককে কয়েক দিন আটকে রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে শর্তসাপেক্ষে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং উদ্ধার করা মালামাল যথাস্থানে ফেরত দেওয়া হয়। তবে মালামালের আর্থিক মূল্য নিয়ে দুই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। একটি সূত্রে মালামালের মূল্য ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং অন্য একটি সূত্রে ৮০ হাজার টাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে উদ্ধারকৃত সামগ্রীর প্রকৃত মূল্য নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।
আইন অনুযায়ী, অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার ধরন বিবেচনায় বাংলাদেশের দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩৭৯ ধারায় চুরির অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছর এবং ৩৮০ ধারায় নির্দিষ্ট স্থাপনা থেকে চুরির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। কর্মচারীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মালামাল চুরির প্রমাণ মিললে ৩৮১ ধারাও প্রযোজ্য হতে পারে। তবে এমন গুরুতর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নিয়মিত ফৌজদারি মামলা না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে ঘটনাটির তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন বেবিচকের উপপরিচালক নজরুল ইসলাম। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিনিয়র অফিসার মো. রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, থার্ড টার্মিনালের সাবেক নিরাপত্তাপ্রধান (চলতি দায়িত্ব) নজরুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন এবং এখনো তিনি এ তদন্তের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দৈনিক সকালের সময় পত্রিকায় ‘একাধিক মামলা-তদন্তের নথিতে নাম: শাহজালালের ডিডি নজরুলকে নিয়ে নানা প্রশ্ন’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এ প্রেক্ষাপটে বর্তমান ঘটনার তদন্তের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে ই-এম হেলপার বাসার ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
সচেতন মহলের মতে, বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তাসংবেদনশীল স্থাপনায় এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শুধু মালামাল উদ্ধার ও প্রশাসনিক নিষ্পত্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।