শিরোনামঃ
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য কমিটিতে বিতর্কিতদের দাপট: তৃণমূলের তীব্র ক্ষোভ চট্টগ্রাম বন্দরের টেন্ডারে অনিয়ম, শর্তে ‘ভূতুড়ে ম্যাজিক’ বিসিএস ছাড়াই ৬ষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগ, আদালতের স্থগিতাদেশও উপেক্ষা সহ বিস্ফোরক দুর্নীতি বিআরটিএর চট্ট্রগ্রাম মেট্রো-২ এ ঘুষ আদায়ের সিন্ডিকেট : উপ-পরিচালক সানাউক হকের ১২ সদস্য সক্রিয় সন্ত্রাসী কবির মুসার বিরুদ্ধে আরো একটি হত্যা মামলা দায়ের আওয়ামী সরকারের জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরাদের আশীর্বাদ পুষ্ট আলাউদ্দিনকে ফায়ার সার্ভিসে নিয়োগ বসন্তের কোকিলরা ফিরছে: উত্তরাতে রাজনৈতিক সমীকরণ বদল ছাত্রদের সৎ, চরিত্রবান ও দেশ প্রেমে উদ্যোগী হতে হবে : নূর হাকিম মো. আলম মোস্তফার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পুরান ঢাকায় রাজউকের নীতিমালা অমান্য করে বহুতল ভবন নির্মাণ

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য কমিটিতে বিতর্কিতদের দাপট: তৃণমূলের তীব্র ক্ষোভ

#
news image

২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ এবং নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করার পর সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কমিটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। তবে ২০২৬ সালে এসে দলটির নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ার খবর বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ হওয়ার পর, ঢাকা মহানগর উত্তরের ১৩ আসনকেন্দ্রিক সম্ভাব্য কমিটিতে বেশ কয়েকজন বিতর্কিত ব্যক্তির নাম আলোচনায় আসায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, রাজপথের ত্যাগী ও বর্তমানে দেশে অবস্থানরত নেতাদের মূল্যায়ন না করে নানকপন্থী একটি প্রভাবশালী গ্রুপ সক্রিয়ভাবে ভূমিদস্যু, মাদকসেবী এবং একাধিক হত্যা মামলার আসামিদের নেতৃত্বে আনার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, শেরেবাংলা নগর ২৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা শেরেবাংলা নগর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুর ইসলাম হৃদয়ের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রির একাধিক মামলা রয়েছে। এমনকি অতীতে ফেসবুকে তাঁর মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তৎকালীন ছাত্রলীগ থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল এবং তিনি ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার বা বাসিন্দা নন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। অন্যদিকে, শেরেবাংলা নগর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আলোচনায় থাকা সাবেক কাউন্সিলর ফোরকান হোসেন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি ও নারী কেলেঙ্কারির পাশাপাশি একসময় মাদক ব্যবসায়ী মিন্টুর ম্যানেজার থাকার এবং আওয়ামী লীগ নেতা ফজলু হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি হিসেবে জেল খাটার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তাঁর ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধেও এলাকায় চাঁদাবাজির অর্থ ভাগাভাগির অভিযোগ রয়েছে এবং এই থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা হীরকের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে তৃণমূল দাবি করেছে।

​একইভাবে মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানা কমিটিতেও বিতর্কিতদের নাম উঠে এসেছে। মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তারিকুজ্জামান রাজীবের বিরুদ্ধে মাদক ও ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে সাড়ে তিন বছর কারাভোগের রেকর্ড রয়েছে। বর্তমানে তেজগাঁও বিভাগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৪টি চার্জশিটভুক্ত মামলাসহ প্রায় ১০ থেকে ১৫টি মামলার এই আসামি সাম্প্রতিক ছাত্র হত্যা মামলায় জড়িয়ে ভারতে পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, আদাবর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আলোচনায় থাকা আবুল হাসেম (হাসু) এলাকায় ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ওহিদ হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি। ৫ আগস্টের পর থেকে প্রায় ১২টি মামলা নিয়ে বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় তাঁর অনুসারীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

​আদাবর থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা আরিফুর রহমান তুহিনের বিরুদ্ধেও গুরুতর অপরাধের খতিয়ান রয়েছে। তিনি ২০১৯ সালে সিলিকন সিটিতে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত জোড়া খুনের ঘটনায় সাভার থানার মামলায় এবং ২০১৮ সালে আদাবর এলাকায় নির্বাচনী সংঘর্ষে দুই ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা—উভয় ক্ষেত্রেই ১ নম্বর আসামি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, হত্যা, ভূমিদস্যুতা ও মাদকের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত এই বিতর্কিত ব্যক্তিদের কোনো ধরনের দলীয় পদ দেওয়া হলে শেরেবাংলা নগর, মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানা এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সাধারণ নেতাকর্মীরা তা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।

নিজেস্ব প্রতিবেদক

৩০-৬-২০২৬ রাত ২:৩

news image

২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ এবং নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করার পর সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কমিটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। তবে ২০২৬ সালে এসে দলটির নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ার খবর বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ হওয়ার পর, ঢাকা মহানগর উত্তরের ১৩ আসনকেন্দ্রিক সম্ভাব্য কমিটিতে বেশ কয়েকজন বিতর্কিত ব্যক্তির নাম আলোচনায় আসায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, রাজপথের ত্যাগী ও বর্তমানে দেশে অবস্থানরত নেতাদের মূল্যায়ন না করে নানকপন্থী একটি প্রভাবশালী গ্রুপ সক্রিয়ভাবে ভূমিদস্যু, মাদকসেবী এবং একাধিক হত্যা মামলার আসামিদের নেতৃত্বে আনার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

​অনুসন্ধানে জানা গেছে, শেরেবাংলা নগর ২৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা শেরেবাংলা নগর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুর ইসলাম হৃদয়ের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রির একাধিক মামলা রয়েছে। এমনকি অতীতে ফেসবুকে তাঁর মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তৎকালীন ছাত্রলীগ থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল এবং তিনি ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার বা বাসিন্দা নন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। অন্যদিকে, শেরেবাংলা নগর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আলোচনায় থাকা সাবেক কাউন্সিলর ফোরকান হোসেন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি ও নারী কেলেঙ্কারির পাশাপাশি একসময় মাদক ব্যবসায়ী মিন্টুর ম্যানেজার থাকার এবং আওয়ামী লীগ নেতা ফজলু হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি হিসেবে জেল খাটার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তাঁর ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধেও এলাকায় চাঁদাবাজির অর্থ ভাগাভাগির অভিযোগ রয়েছে এবং এই থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা হীরকের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে তৃণমূল দাবি করেছে।

​একইভাবে মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানা কমিটিতেও বিতর্কিতদের নাম উঠে এসেছে। মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তারিকুজ্জামান রাজীবের বিরুদ্ধে মাদক ও ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে সাড়ে তিন বছর কারাভোগের রেকর্ড রয়েছে। বর্তমানে তেজগাঁও বিভাগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৪টি চার্জশিটভুক্ত মামলাসহ প্রায় ১০ থেকে ১৫টি মামলার এই আসামি সাম্প্রতিক ছাত্র হত্যা মামলায় জড়িয়ে ভারতে পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, আদাবর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আলোচনায় থাকা আবুল হাসেম (হাসু) এলাকায় ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ওহিদ হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি। ৫ আগস্টের পর থেকে প্রায় ১২টি মামলা নিয়ে বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় তাঁর অনুসারীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

​আদাবর থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা আরিফুর রহমান তুহিনের বিরুদ্ধেও গুরুতর অপরাধের খতিয়ান রয়েছে। তিনি ২০১৯ সালে সিলিকন সিটিতে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত জোড়া খুনের ঘটনায় সাভার থানার মামলায় এবং ২০১৮ সালে আদাবর এলাকায় নির্বাচনী সংঘর্ষে দুই ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা—উভয় ক্ষেত্রেই ১ নম্বর আসামি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, হত্যা, ভূমিদস্যুতা ও মাদকের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত এই বিতর্কিত ব্যক্তিদের কোনো ধরনের দলীয় পদ দেওয়া হলে শেরেবাংলা নগর, মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানা এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সাধারণ নেতাকর্মীরা তা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।